চ্যাম্পিয়নস ট্রফি
হৃদয় জিতে নিলেন হৃদয়
‘হৃদয়জুড়ানো’ এক ব্যাটিং পারফরম্যান্সের দেখা মিলেছে আজ বাংলাদেশের কাছ থেকে। ৩৫ রানে যখন পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটল, তখন বাংলাদেশের কাছে ১০০ রানটাও মনে হচ্ছিল অনেক কিছু। সেই রানটা ২২৮-এ ঠেকেছে হৃদয়ের গুণে।
এ যেন শেষ থেকে শুরু। আট বছর আগে ঠিক যেখানে থেমেছিল বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির যাত্রা, ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়েছে এবার। প্রতিপক্ষ সেই ভারত, আছে পরিচিত ব্যাটিং বিপর্যয়ও। এত হতাশার মাঝেও আশার বাণী হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন তাওহিদ হৃদয়। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে করা এক সেঞ্চুরি জিতে নিয়েছে সকলের হৃদয়।
আক্ষরিক অর্থেই ‘হৃদয়জুড়ানো’ এক ব্যাটিং পারফরম্যান্সের দেখা মিলেছে আজ বাংলাদেশের কাছ থেকে। দুই ওভারের ভেতর নেই দুই উইকেট, হাঁসের দেখা পেয়েছেন তিনজন। বিপদের ভরসা অভিজ্ঞ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে ছাড়াই সাজানো হয়েছিল একাদশ। ৩৫ রানে যখন পঞ্চম উইকেটের পতন ঘটল, তখন বাংলাদেশের কাছে ১০০ রানটাও মনে হচ্ছিল অনেক কিছু। সেই রানটা ২২৮-এ ঠেকেছে হৃদয়ের গুণে।
হৃদয় ব্যাটিংয়ে নেমেছিলেন সপ্তম ওভারে। ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন মাত্র ২৬। দুই ওভারের মধ্যে ফেরত গেলেন আরও দুইজন। উইকেটে তখন শেষ দুই স্বীকৃত ব্যাটসম্যান, হৃদয় আর জাকের আলি। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাঝে খুটি গেড়ে দাঁড়িয়ে গেলেন দুইজন। প্রতিটি বল খেলেছেন দেখে-শুনে, রান রেটের দিকে নজর না দিয়ে ধরে রেখেছেন উইকেট। ৫০ পূরণ করতে জাকের আলি বল নিয়েছেন ৯০টি! তাওহিদ হৃদয় ৮৫টি!
ততক্ষণে ওভার পেরিয়ে গিয়েছে ৩৭। ব্যাটিংয়ে শিফট করলেন গিয়ার, চার-ছয়ের ফুলঝড়ি ছোটা শুরু করল জাকের-তাওহিদের ব্যাট থেকে। ১১৮ বলে ৬৮ করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন জাকের, আউট হওয়ার আগে গড়েছেন ১৫৪ রানের জুটি, ওয়ানডে ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি এটিই।
লম্বা ইনিংসে হৃদয়ের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল দুবাইয়ের আবহাওয়া। ৪০ ওভারের পর থেকেই খোঁড়াতে শুরু করেন হৃদয়। ক্রিজে পায়ের নড়াচড়া একপ্রকার বন্ধই হয়ে যায়। রান নিতে পারছেন না, শটও খেলছেন জায়গায় দাঁড়িয়ে, অজান্তেই যেন ’২৩ বিশ্বকাপের গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের ইনিংসের কথা মনে পরে গেল। সেদিন আফগানিস্তানের বিপক্ষে জায়গায় দাঁড়িয়ে তুলে নিয়েছিলেন ২০০! সেটাও এসেছিল এক ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে। হৃদয়ের চোট ম্যাক্সওয়েল থেকে কোনো অংশে কম ছিল না। হাটাচলা তো বন্ধই, ব্যথায় কুঁকড়ে কিছুক্ষণ শুয়েও ছিলেন ক্রিজে। তবুও রান নিয়ে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য ছিল না তার। রান পূরণ করতে ডাইভ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।
অবশেষে ৪৯তম ওভারে এল হৃদয়ের সেঞ্চুরি। ব্যাট উঁচিয়ে জানান দিলেন নিজের আগমনের। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি, সেটাও এল ব্যাটিং বিপর্যয়ের দিনে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সূচনা হয়েছিল ৯২ রানের এক ইনিংস দিয়ে। শ্রীলংকার বিপক্ষে ছিল ৯৬ রানের এক অপরাজিত ইনিংস। আসি আসি করেও সেঞ্চুরি আর আসছিল না তাঁর। অবশেষে অপেক্ষার শেষ হলো চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মঞ্চে।
বাংলাদেশী সমর্থকদের হৃদয়ে হৃদয়ের ইনিংসটা গাঁথা থাকবে বেশ অনেকদিন। কিন্তু এই অল্প পুঁজি নিয়ে ভারতের সঙ্গে লড়াই করা বেশ কঠিন। এখন দরকার বোলারদের অতিমানবীয় কয়েকটা স্পেল। নইলে এবারও শুধু হৃদয়ের সেঞ্চুরিতেই হৃদয় ভরাতে হবে সমর্থকদের।