তুমি কতটা রাগী

তুমি কতটা রাগীএআই আর্ট

রাগ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। যদি আমরা এমন কাউকে খুঁজে পাই, যার ভেতরে কোনো রাগ নেই, তবে সবাই মিলে তাকে ‘শান্ততম’ পুরস্কার দিয়ে দেব। রাগ অনুভূতিটা আমাদের ভেতরে এসেছে পৃথিবীতে টিকে থাকার প্রয়োজন থেকে। আর শত্রুদের ঠেকিয়ে রাখা, নিরাপদ জায়গায় পালিয়ে যাওয়া থেকেও রাগের উৎপত্তি হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করেন।

তবে রাগ অতিরিক্ত হয়ে গেলে সমস্যা দেখা দেয়। অতিরিক্ত রাগের কারণে আমাদের শরীর আর মনে আঘাত লাগতে পারে। অতিরিক্ত রাগে মানসিক সুস্থতা কমে যায়। পরিবারে, বন্ধু বা স্কুলে রাগের কারণে অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

আমরা এখানে কুইজের মধ্য দিয়ে নিজেদের রাগের মাত্রা পরিমাপ করব। নিজেরা নম্বর দেব নিজেদের। এরপর নিচে ফলাফল দেখব। এভাবে আমাদের রাগ নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। রাগ করলে আমরা অন্যদের বুঝতে পারি না। অন্যদের সঙ্গে সহজে মিশতে পারব।

এখানে রাগের মাত্রা পরিমাপের জন্য ০ থেকে ৩ পর্যন্ত একটি স্কেল আছে। স্কেলটি বুঝে নিয়ে তুমি কুইজের পাশে রাখা খালি জায়গায় নম্বর বসিয়ে ফেলো। যেমন প্রথম প্রশ্নে আছে, আমি আমার সমস্যার জন্য অন্যদের দোষ দিই। তুমি যদি কখনো কাউকে নিজের সমস্যার জন্য দোষ না দাও, তবে বাঁ পাশের খালি জায়গায় ০ বসাবে। যদি মাসে একবার দোষ দাও, তবে বসাবে ১। যদি সপ্তাহে একবার দোষ দাও, তবে ২ বসাও। আর যদি প্রতিদিনই এমন ঘটনা ঘটে, যেখানে তুমি অন্যকে দোষারোপ করছ, তবে ৩ বসাও। এভাবে নম্বর বসিয়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও এবং সবশেষে নম্বরগুলো যোগ করো। উত্তর দেওয়ার সময় অবশ্যই নিজের প্রতি সৎ থাকতে হবে। কারণ, কেউ তোমার উত্তর দেখবে না। সঠিক উত্তর দিলে নিজেকে যাচাই করা সহজ হবে।

আমি আমার সমস্যার জন্য অন্যদের দোষ দিই
এআই আর্ট

যেভাবে নম্বর দিতে হবে

০ = তুমি কখনো এটি করো না

১ = মাঝেমধ্যে এটি করো, তবে মাসে একবারের বেশি নয়

২ = প্রায়ই করো, সপ্তাহে একবার বা তার বেশি

৩ = প্রায় প্রতিদিন বা সপ্তাহে কয়েকবার করো

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও এবং বাঁ পাশের খালি জায়গায় নম্বর বসাও

___১. আমি আমার সমস্যার জন্য অন্যদের দোষ দিই।

___২. হতাশ বা বিরক্ত হলে জিনিসপত্র ছুড়ে ফেলি বা ভেঙে ফেলি।

___৩. রেগে গেলে আমাকে কেউ সহজে আর শান্ত করতে পারে না। আমার পক্ষে শান্ত হওয়া খুব কঠিন হয়।

আরও পড়ুন

___৪. পরিবর্তন পছন্দ করি না। মা–বাবার মাধ্যমে বা স্কুলে কোনো কিছু পরিবর্তন হলে আমি রেগে যাই।

___৫. অন্যদের সঙ্গে খেলাধুলার সময় আমি মাঝেমধ্যে নিয়ম বদলে ফেলি।

___৬. আমি বাধা পেলেই বিদ্বেষপূর্ণ কথা বলি। কখনো সেটা ঘৃণাসূচক কথা হয়ে যায়।

___৭. আমার ভেতরে নেতিবাচক মনোভাব আছে। হোমওয়ার্ক বাসায় করতে বাধ্য করলে ইচ্ছা করে ধীরগতিতে কাজ করি। কোনো নির্দেশ সহজে আমার পক্ষে মানা সম্ভব না, ফলে মা–বাবা আমাকে শাস্তিও দিতে পারে না।

___৮. আমি সব সময় বিরোধিতা বা ঝগড়া করার কারণ খুঁজি। সাধারণ কারণ না থাকলে অকারণে বিরক্ত হওয়ার উপায় খুঁজি। সবকিছু শান্ত থাকলে আমার ভালো লাগে না।

___৯. আমি অন্যদের এড়িয়ে চলি। অন্যদের তেমন পছন্দ করি না। অন্যদের সিরিয়াস সমস্যা আছে। অন্যদের নামে অভিযোগ করি।

___১০. রেগে গেলে আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। রাগ আমার চেহারা দেখে বোঝা যায়। রাগে আমার শরীর কাঁপতে থাকে।

___১১. রেগে গেলে আমি গালি দিই।

___১২. নতুন কিছু শেখার সময় আমার সহজেই হতাশ লাগে। ইচ্ছা করে অন্য কিছু করি, যে বিষয়ে আমি দক্ষ।

রেগে গেলে আমি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি
এআই আর্ট

___১৩. আমাকে কেউ কেউ একরোখা বলে। মা–বাবা কঠোর স্বরে আমাকে কিছু না বললে আমি নির্দেশ মানতে চাই না। ক্লাসে সাধারণ নির্দেশনা মেনে নিতে আমার অসুবিধা হয়।

___১৪. আমার সঙ্গে আমার বন্ধুরা খেলতে চায় না। কারণ, আমি খেলার সময় ঝামেলা করি। কখনো কখনো বাধ্য হয়ে খারাপ আচরণ করি।

___১৫. আমার বয়সী অন্যদের সঙ্গে আমার ঝগড়া লাগে। এ নিয়ে আমাকে কেউ কিছু বললে বা উপহাস করলে আমার রাগ লাগে। এমন অবস্থায় সহজে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না।

আরও পড়ুন

তুমি যেখানে আছ

০-৫: তুমি রাগ বা হতাশার প্রবণতা থেকে মুক্ত। বরং তুমি হয়তো একটু বেশিই শান্ত। শান্ত হওয়া খারাপ কিছু না। এর পরিবর্তন করার দরকার নেই। যেমন আছো তেমন থাকো।

৬-১০: তোমার ভেতরের রাগ ও বিরক্তির মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে। তবে তোমার স্কোর যদি ১০-এর কাছাকাছি হয় এবং তোমার বয়স যদি ৬ বছরের নিচে হয়, তবে এটি তোমার জন্য স্বাভাবিক। তবে তোমার স্কোর ৬ আর বয়স ১০ বা এর বেশি হয়, তবে তোমার রাগের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আছে।

১১-১৫: তোমার রাগ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে যদি স্কোর বেশি হয়, তবে বাবা–মায়ের বিশেষভাবে তোমার প্রতি খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

১৬-২০: তোমার রাগ নিয়ন্ত্রণের সমস্যা আছে। তোমার বাবা-মা, স্কুলের শিক্ষকের উচিত তোমাকে বিশেষভাবে সাহায্য করা।

২০-এর বেশি: তোমার রাগ ‘গুরুতর’ পর্যায়ে উঠেছে। স্কুলে চলাফেরায় তোমার অসুবিধা হচ্ছে। রাগ নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। প্রয়োজনে পেশাদার সাহায্যও নেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন