সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমরা পাঠ্যবইয়ে পড়ে আসছি, মানুষ সামাজিক জীব। বইয়ে যা-ই লেখা থাকুক না কেন, এমন অনেকেই আছে যাদের কপালে জোটে ‘অসামাজিক’ বিশেষণটি। চলো, তোমার কপালে সামাজিক না অসামাজিক কোন বিশেষণটি জোটে, সেটা বের করা যাক। ঝটপট নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও আর স্কোর মিলিয়ে জেনে নাও তোমার অবস্থান।
১. ধরো, এক বিকেলে তুমি হাঁটছিলে। এমন সময় দেখতে পেলে তোমার পরিচিত এক শিক্ষককে। তিনি অবশ্য তোমাকে দেখেননি। তুমি যা করবে—
ক. নিজ থেকে এগিয়ে গিয়ে আলাপ শুরু করব। সময় থাকলে চা পানের নিমন্ত্রণও দিয়ে দিতে পারি!
খ. আমাকে দেখেননি? তাহলে তো বেঁচেই গেলাম! দেখে ফেললে কথা বলতাম। নইলে কী দরকার?
গ. অন্যদিকে হাঁটা ধরব। আমাকে দেখে ফেললেও আমি এমন ভাব করব, যেন আমি দেখতে পাইনি। এমনিতেই আমি কারও সঙ্গে কথা বলতে পারি না, তার ওপর শিক্ষকের সঙ্গে তো আরও আগে নয়!
২. এক মাসের জন্য তোমাকে একটা চমত্কার সুন্দর জায়গায় নিয়ে যাওয়া হবে। থাকা বা ঘোরার কোনো খরচ তোমাকে বহন করতে হবে না। আবার ক্লাসের উপস্থিতি নিয়েও সমস্যায় পড়তে হবে না। শর্ত একটাই। এই এক মাস কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারবে না তুমি। তুমি কী করবে?
ক. আরে, এ তো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! রাজি একদম। যোগাযোগ করাটাই মুশকিল মনে হয় আমার। নিজের মতো থাকতেই ভালো লাগে।
খ. সবচেয়ে কাছের বন্ধুটার সঙ্গে কথা না বলে থাকাটা কষ্টের হবে বটে, কিন্তু কী আর করা! এমন একটা সুযোগও তো হাতছাড়া করা যায় না...
গ. এ তো অসম্ভব! কারও সঙ্গে যোগাযোগ না করে এক মাস? এক মিনিটও তো সম্ভব না।
৩. সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানে তোমার অবস্থা যা হয়—
ক. টুকটাক গল্প করি, আড্ডা হলে অল্প-বিস্তর অংশ নিই। তবে আমার মূল আগ্রহ থাকে খাবারদাবারেই!
খ. ‘সামাজিক হওয়ার ১০০টি উপায়, ১টি ফ্রি’ নামক বইয়ে অথবা মোবাইলে মুখ গুঁজে থাকি। কারও সঙ্গে কথা এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় এগুলোই কি না...
গ. আমাকে ঘিরেই তো আড্ডা জমে যায়। পরিচিত হোক আর অপরিচিত হোক, আমাকে ছাড়া অনুষ্ঠানে আনন্দটাই জমে না।
৪. বিল পরিশোধের জন্য দাঁড়িয়ে আছ। সামনে লম্বা লাইন। তোমার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বয়স্ক কাঁচা-পাকা চুলের একজন। আর পেছনে তোমার চেয়ে বয়সে ছোট এক ছেলে। এমন পরিস্থিতিতে তুমি যা করো...
ক. সামনে দাঁড়ানো মানুষটার সঙ্গে সমাজ, দেশ, জাতি নিয়ে তুখোড় আলোচনা শুরু করব। সে আগ্রহী না হলে ছোট ছেলেটার সঙ্গেই ক্রিকেট বা ফুটবল নিয়ে কথা বলব। সময় তো পার করতে হবে!
খ. অপেক্ষা করতে করতে বন্ধুকে ফোন দিয়ে তার সঙ্গে গল্প করব।
গ. সামনে-পেছনে কে দাঁড়িয়ে আছে সেটা বিষয় না, লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের মতো অপেক্ষা করব।
৫. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমি কতটা সক্রিয়?
ক. এই প্রশ্নই আমাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিজ্ঞেস করা হলে অন্তত তিন দিন পর তার উত্তর পাওয়া যেত। একদমই সক্রিয় না আমি!
খ. ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম কোনো কিছু বাদ নেই। আমি সবখানেই আছি। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সবটাতেই সক্রিয় থাকা জরুরি।
গ. যতটুকু দরকার ততটুকুই ব্যবহার করি। ব্যবহার করতেই হবে এমন না, আবার একেবারে না করেও থাকতে পারি না।
৬. বেশ আড্ডা চলছে। সবাই নিজেদের মজার অভিজ্ঞতার কথা বলছে। পালা এল তোমার অভিজ্ঞতা বলার...
ক. কোনটা রেখে কোনটা বলব, সেটাই তো ভেবে পাব না প্রথমে। আমার ঝুলিতে গল্পের অভাব নেই!
খ. ইয়ে না মানে, না বললেই নয়? এমন ইতস্তত করতে করতেই সময় পার হয়ে যাবে। আমি একদম গুছিয়ে কথা বলতে পারি না ভাই।
গ. সবাই যখন বলেছে তখন একটা গল্প তো বলাই যায়। কিন্তু না বলতে হলেই বেশি খুশি হতাম।
৭. বাসে করে ফিরছ। তোমার খুব প্রিয় বইটা পড়ছেন পাশের সিটে বসা ভদ্রলোক। তুমি যা করবে—
ক. পড়তেই পারেন। তাকে নিশ্চয়ই আমি বিরক্ত করতে পারি না। চুপ করে নিজের মতো থাকব।
খ. বাহ্! আমার প্রিয় বই পড়ছেন আর আমি কথা না বলে পারি? কথা বলতে শুরু করব, বইয়ের কোন অংশটা প্রিয়, কোন চরিত্রটা কেমন জানাতেও ভুলব না।
গ. বইয়ের পাতায় চোখ বোলাতে পারি। কথা হয়তো নিজ থেকে বলব না।
৮. ক্লাসে দলগত কাজের জন্য দল ভাগ করা হচ্ছে। ‘তমুক’কে তুমি একেবারেই পছন্দ করো না। হ্যারি পটার যেমন সর্টিং হ্যাট মাথায় পরে বলতে থাকে, ‘নট স্লিদারিন, নট স্লিদারিন’, তোমারও প্রায় সে রকম অবস্থা। কিন্তু তোমার দলেই ‘তমুক’কে দেওয়া হলো। তারপর?
ক. পছন্দ করি না, কিন্তু কাজের খাতিরে তো মানতেই হবে। কাজটাই আগে।
খ. শিক্ষককে বলব অন্য কোনো দলে আমাকে দিয়ে দিতে। নইলে তো কাজই করতে পারব না।
গ. দেখতে না পারলেও ওর সঙ্গে গল্প করব। কাজ নিয়ে আলাপ করব। ও বুঝতেও পারবে না আসলে ওকে দেখতে পারি না।
৯. কোনো অনুষ্ঠান শেষ। তুমি সেখান থেকে চলে আসবে। তার আগে—
ক. খুঁজে খুঁজে পরিচিতদের বের করব। টুকটাক কথা শেষ করে বলব, ‘চলি, আবার দেখা হবে।’
খ. অনুষ্ঠান শেষ? এর চেয়ে আনন্দের খবর আর কী হতে পারে! সোজা বাসার দিকে হাঁটা ধরব।
গ. যাদের না বলে চলে গেলে খারাপ দেখায়, তাদের শুধু ‘বাই’ বলব।
১০. এর মধ্যে যে কাজটি কখনোই তোমার দ্বারা করা সম্ভব না—
ক. নিজ থেকে কারও সঙ্গে কথা বলা! মানে, এমন না তাকে অপছন্দ করি। কিন্তু কী কথা বলব সেটাই বুঝি না।
খ. প্রয়োজনের বেশি কথা বলা। টুকটাক কুশলাদির পর কথা বলার প্রয়োজন মনে করি না আমি।
গ. কারও সঙ্গে কথা না বলে তাকে এড়িয়ে যাওয়া। একটা মানুষের সঙ্গে কথা না বললে পরিচিত হব কীভাবে?
নম্বর
১. ক. ১০ খ. ৫ গ. ০
২. ক. ০ খ. ৫ গ. ১০
৩. ক. ৫ খ. ০ গ. ১০
৪. ক. ১০ খ. ৫ গ. ০
৫. ক. ০ খ. ১০ গ. ৫
৬. ক. ১০ খ. ০ গ. ৫
৭. ক. ০ খ. ১০ গ. ৫
৮. ক. ৫ খ. ০ গ. ১০
৯. ক. ১০ খ. ০ গ. ৫
১০. ক. ০ খ. ৫ গ. ১০
তুমি যেখানে দাঁড়িয়ে
০-৪০: অসামাজিকতার জন্য কোনো পুরস্কার বরাদ্দ করা হলে তুমি নিশ্চিত সেটা জিতে ফেলতে এত দিনে। তুমি নিজেও জানো তুমি খুব একটা সামাজিক নও। তা নিয়ে তুমি মাঝেমধ্যেই বিব্রত হও। বিশেষত, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরিতে একটু পিছিয়ে তুমি। সামাজিক না হওয়াটা তেমন সমস্যা নয়। তবে একেবারেই অসামাজিক হয়ে যদি নিজেই বিব্রতবোধ করো, তাহলে আরেকটু সামাজিক হওয়ার চেষ্টা তো করতেই পারো।
৪৫-৭০: তুমি কি সব সময় স্কেল নিয়ে ঘোরো? তুমি একদম মাপা সামাজিক কি না, তাই বলছিলাম। কোথায় কতটুকু সামাজিক হওয়া দরকার সেটুকু বুঝে তুমি কাজ করো। তবে সব সময় যে সফল হও, তা নয়। অনেকেই ভাবে তুমি সামাজিক না, আবার অনেকেই মনে করে তুমি অনেক সামাজিক। সবচেয়ে বড় কথা, তুমি নিজের সামাজিকতা জ্ঞান নিয়ে সন্তুষ্ট। সে ক্ষেত্রে এ রকম সামাজিক থাকার চেষ্টাটা অব্যাহত রাখতেই পারো।
৭৫-১০০: তোমাকে সামাজিক না বললে অন্যায় হবে রীতিমতো। এতটা সামাজিক হওয়া যে সম্ভব, তোমাকে না দেখলে বোঝা যাবে না। কিন্তু অনেক সময় অতিরিক্তই সামাজিক হয়ে যাও তুমি। ফলে অনেকেই তোমার সামাজিকতায় বিরক্ত হয়। সে ক্ষেত্রে আরেকটু বুঝেশুনে সামাজিক হওয়াই ভালো। তবে সামাজিক হতে পারাটাও একটা দক্ষতা।