ছোটবেলা থেকেই শান্তশিষ্ট সারাফ নানা সহশিক্ষামূলক কাজে পা বাড়ায় মা-বাবার উৎসাহে। স্কুলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত নাচতে কিংবা গাইতে দেখা যেত তাকে। একটু বড় হওয়ার পর শুরু করল বিতর্ক, সেখানে মিলতে লাগল একের পর এক শ্রেষ্ঠ বক্তার খেতাব। পিছিয়ে থাকল না বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিজ্ঞান উৎসবের দেয়াল পত্রিকা প্রতিযোগিতায়। এ ছাড়া চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায়ও ভারী হতে থাকল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই এসএসসি পরীক্ষার্থীর পুরস্কারের ঝুলি।
সুযোগ পেলেই সে বসে পড়ে খাতা-কলম নিয়ে। লিখে ফেলে একের পর এক ছড়া-কবিতা, যার কিছু কিছু প্রকাশ পেয়েছে ছাপার অক্ষরে। লিখতে লিখতে তার হাতের লেখাটা কিন্তু হয়ে উঠেছে দারুণ, যার প্রমাণ মেলে একাধিক হাতের লেখা প্রতিযোগিতার পুরস্কারে।
খেলাধুলাতেও পিছিয়ে নেই সে। ছোটবেলা থেকেই স্কুলের বার্ষিক খেলাধুলায় দৌড় আর উচ্চ লাফের পুরস্কার যেন বাঁধা থাকে তার জন্য। পারদর্শী ব্যাডমিন্টন, হ্যান্ডবল ও ভলিবল খেলায়। সাইকেল চালানো আর সাঁতারেও পটু সে। সেই সঙ্গে স্কাউটিং চালিয়ে যাচ্ছে সমানতালে। স্কাউটের বার্ষিক তাঁবুবাসে নিয়মিত অংশ নেওয়া মেয়েটি সাফল্য অর্জন করেছে প্রেসিডেন্ট স্কাউট অ্যাওয়ার্ডের আঞ্চলিক ধাপে।
এত কিছুর ভিড়েও সারাফ পড়াশোনাটা করে ঠিকমতোই। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় পেয়েছে জিপিএ-৫। ফলাফল অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা রয়েছে এসএসসিতেও। বড় হয়ে একজন নিষ্ঠাবান চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে।
সারাফের সাক্ষাৎকার
প্রশ্ন :
অবসরে যা করি...
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিই।
প্রশ্ন :
স্কুলে যা ভালো লাগে, যা খারাপ লাগে...
সব ভালো লাগে, খারাপ কিছু খুঁজে পাই না!
প্রশ্ন :
স্কুলের মজার স্মৃতি...
স্যারকে নকল করতে গিয়ে তাঁর কাছে ধরা খেয়েছিলাম!
প্রশ্ন :
প্রিয় বই...
মুহম্মদ জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদ।
প্রশ্ন :
প্রিয় কবিতার লাইন...
‘আবার আসিব ফিরে/ ধানসিঁড়িটির তীরে/ এই বাংলায়।’
প্রশ্ন :
আমার সবচেয়ে বড় শক্তি...
আমার আত্মবিশ্বাস।
প্রশ্ন :
যা ভয় পাই...
সাপ-বিচ্ছু-মাকড়সা...ওরে বাবা!
প্রশ্ন :
লটারি জিতলে...
সব টাকা পথশিশুদের জন্য খরচ করব।
প্রশ্ন :
যার কাছে আমার সব সমস্যার সমাধান থাকে...
আমার মা।
প্রশ্ন :
গোপন ইচ্ছা...
জাফর ইকবাল স্যারকে যদি আমার লেখা ছড়াগুলো পড়ে শোনাতে পারতাম!