ব্রণ হলে কী করব
ব্রণ হলো ত্বকের সবচেয়ে সাধারণ একটি সমসা। যেকোনো বয়সে যে কারও এটি হতে পারে। তবে বয়ঃসন্ধিকালে এটি বেশি দেখা যায়। ১২-২৫ বছর বয়সীদের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ব্যক্তি ব্রণের সমস্যায় ভোগে। কিশোর বয়সী ছেলে-মেয়েরা ব্রণের সমস্যায় সমানভাবে আক্রান্ত হয়।
বয়ঃসন্ধিকালে ব্রণের জন্য হরমোনের পরিবর্তন প্রধানত দায়ী। ত্বক থেকে তেলের, তথা সিবাসিয়াস গ্রন্থির কার্যক্রম বাড়ে। এ কারণে ত্বকের রোমকূপের ছিদ্রগুলো আটকে যায়। ফলে প্রদাহের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়। মুখ ছাড়াও ঘাড়ে, কাঁধে বা বুকে ব্রণ হয়। এ ছাড়া ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ব্রণের জন্য দায়ী। প্রোপায়োনিব্যাকটেরিয়াম অ্যাকনি (Propionibacterium acne) হলো ত্বকে উপস্থিত একটি ব্যাকটেরিয়া, যা আটকে থাকা ছিদ্রগুলোতে বৃদ্ধি পায়। এটিও ব্রণের কারণ।
ব্রণের সমস্যার মূলে যা আছে
১. মুখের পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল না রাখা।
২. বারবার ব্রণ স্পর্শ করা। এগুলো থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে।
২. বেশি মেকআপ ব্যবহার করা। এর কারণে রোমকূপের ছিদ্র আটকে যায় এবং ব্রণের সমস্যা দেখা যায়।
৩. পিরিয়ডের শুরুতে হরমোন মাত্রার ভারসাম্যহীনতা।
৪. ধীরগতির মেটাবলিজমের কারণে সুগার বেড়ে গেলে ব্রণের সমস্যা দেখা যায়।
৫. অতিরিক্ত ভাজা ও মসলাদার খাবার খাওয়া।
ব্রণ হলে ত্বকের যত্ন
১. ক্লিনজি: মুখের ময়লা, তৈলাক্ত ভাব দূর করতে মুখ মৃদু ক্লিনজার দিয়ে ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।
২. ময়েশ্চারাইজার: ত্বকের pH নিয়ন্ত্রণ করে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে।
ব্রণের চিকিৎসা
১. চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
২. ব্রণ বারবার স্পর্শ করা যাবে না। এতে ব্যাকটেরিয়া ত্বকের গভীরে পৌঁছে যায় এবং ত্বকে দাগ ফেলে।
৩. চিনিযুক্ত খাবার ও ফাস্ট ফুড খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
৪. পানি/পানীয় বেশি করে খেতে হবে।
৫. ত্বকের ধরন বুঝে প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে।
৬. স্টেরয়েডজাতীয় ক্রিম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৭. খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল ও সবজির পরিমাণ বাড়াতে হবে।
লেখক: সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা