মাইক্রোস্কোপিক দুনিয়া দেখতে কেমন
আমাদের চোখের সামনে থাকা পরিচিত জগত কি সত্যিই আমরা যেভাবে দেখি, ঠিক তেমনই? এক ফোঁটা পানি, এক মুঠো মাটি কিংবা আমাদের শরীরের ক্ষুদ্র কোষগুলো অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে কেমন দেখায়? প্রশ্নগুলোর উত্তর নিয়ে প্রতিবছর আয়োজন করা হয় ‘দ্য নিকন স্মল ওয়ার্ল্ড ফটোমাইক্রোগ্রাফি প্রতিযোগিতা’। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পেশাদার ও শখের বিজ্ঞানীরা মাইক্রোস্কোপ বা অণুবীক্ষণযন্ত্রের সাহায্যে তোলা মাইক্রোস্কোপিক ছবি জমা দেন। প্রতি বছরের মতো, ২৪ সালে আয়োজকেরা সেরা ২০টি ছবি প্রকাশ করেছেন। সেখান থেকে সেরা ১০টি ছবি প্রকাশিত হলো কিশোর আলোর পাঠকদের জন্য।
ভয়ঙ্কর চরিত্র
ব্র্যাকেন ফার্ন (Pteridium aquilinum) গাছের কাণ্ডের একটি অংশের ছবি এটা। মাইক্রোস্কোপের নিচে পাঁচগুণ বড় করে তোলা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে মুভির ভয়ঙ্কর কোনো চরিত্র। ছবি তুলেছেন ড. ডেভিড মেইটল্যাণ্ড। বিশ্বের প্রায় সর্বত্র এই গাছের দেখা মেলে।
অক্টোপাসের ডিম
ক্যারিবিয়ান সাগরের গভীর তলদেশে লুকিয়ে থাকা অক্টোপাসের ডিমের একটি অসাধারণ ছবি এটি। অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে তোলা এই ছবিতে ডিমগুলোকে তিন গুণ বড় করে দেখানো হয়েছে। ডিমগুলোর মধ্যে কয়েকটিতে হালকা বাদামি রঙের দুটি চোখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোবায়োলজি বিভাগের বিজ্ঞানী টমাস বারলো ও কনর গিবনস এই ছবিটি তুলেছেন।
পানির মাছি
ছবিতে দেখা জীব দুটিকে দেখে মনে হতে পারে এদের চিংড়ির মতো হাত, মৌমাছির মতো লেজ এবং মাছির মতো শরীর। কিন্তু এরা আসলে দুটি পানির মাছি (Daphnia)। এরা আকারে ০ দশমিক ২ মিমি থেকে ৬ দশমিক ০ মিমি হয়ে থেকে। বাঁয়ের মাছিটির মধ্যে রয়েছে ভ্রূণ এবং ডানের মাছিটির পেটে রয়েছে ডিম। ছবিটি তুলেছেন মারেক মিস।
ব্যাঙের ছাতা
ছবিটা দেখেই মনে হবে এটা ব্যাঙের ছাতা। কেননা এটা ওপরে রয়েছে দু ফোটা পানি। তবে নিচে নেই ব্যাঙ। এটি পচা ডালের ওপর জন্মানো এক ধরনের ছত্রাক। যা পানির ফোঁটাসহ মাইক্রোস্কোপের নিচে ০ দশমিক ৭ থেকে ৪ দশমিক ৫ গুণ বড় করে তোলা হয়েছে। ছবিটি ডা. ফেরেঙ্ক হ্যালমোস তুলেছেন।
জালে আটকা কদমফুল
এটা জালই বটে। তবে মাকড়সার জাল। জালে আটকে আছে কিছু পরাগরেণু। ছবিটা জার্মানির একটা বাগান থেকে তুলেছেন জন-আলিভার ডাম। মূল ছবিকে ২০ গুণ বড় করে দেখানো হয়েছে এখানে।
আগুণ
কালো ট্রাফল (Tuber melanosporum) নামে খুব দামি একধরনের ছত্রাক আছে পৃথিবীতে। এ ছবিতে সেই কালো ট্রাফলের ছোট অংশ দেখা যাচ্ছে। একে বলে স্পোর। ছবিটি ৬৩ গুণ বড় করে তোলা হয়েছে। চেক রিপাবলিকের চার্লস ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব এক্সপেরিমেন্টাল প্ল্যান্ট বায়োলজির গবেষক জ্যান মার্টিন ছবিটি তুলেছেন।
একগাদা চোখ
এটি সবুজ কাঁকড়া মাকড়সার (Diaea dorsata) চোখের ছবি, যা মাইক্রোস্কোপের নিচে ২০ গুণ বড় করে তোলা হয়েছে। এই মাকড়সাটি পরিবেশের সঙ্গে মিশে যাওয়ার জন্য রং বদলাতে পারে। তবে এতে কয়েকদিন সময় লাগে। ছবিটা তুলেছেন পাওয়েল ব্লাকোউইচ।
ফোয়ারা
একটা পিন ও তার দেখা যাচ্ছে ছবিতে। আর আলোকিত অংশটি হলো পিন ও তারের মধ্যে বিদ্যুৎ চলাচলের ফলে তৈরি আলো। মূল ছবি থেকে ১০ গুণ বড় করে দেখানো হচ্ছে এখানে। এ ধরনের ছবি তুলতে ‘স্ট্যাকিং’ নামে এক বিশেষ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতিতে একাধিক ছবি তুলে সেগুলো একত্রিত করে একটি স্পষ্ট ছবি তৈরি করা হয়। ছবিটি মার্সেল ক্লেমেন্স নামে এক ইতালীয় বিজ্ঞানী তুলেছেন।
নীল ডানা
এটি একটি ইউলিসিস প্রজাপতির ডানার আঁশের ছবি, যা মেডিকেল সিরিঞ্জের সূঁচের মধ্যে ২০ গুণ বড় করে তোলা হয়েছে। ছবিটি ড্যানিয়েল নপ তুলেছেন। এই প্রজাপতির ডানা ১৪ সেন্টিমিটার হয়। এরা এদের নীল ডানার জন্য জীববিজ্ঞানীদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়।
কোষের ধারা
যেন দীঘির জলে শাপলা ফুটে আছে। কিন্তু এগুলো আসলে ফুল নয়। ইঁদুরের মস্তিষ্কের টিউমার কোষের অ্যাক্টিন সাইটোস্কেলেটন, মাইক্রোটিউবিউলস এবং নিউক্লিয়াসের বিস্ময়কর ক্রিয়াকলাপ দেখা যাচ্ছে ছবিতে। এটাই ২০২৪ সালের ‘নিকন স্মল ওয়ার্ল্ড ফটোমাইক্রোগ্রাফি প্রতিযোগিতায়’ প্রথম পুরস্কার জিতেছে। ছবিটি তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার অগাস্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের জর্জিয়া মেডিকেল কলেজ নিউরোসায়েন্স ও রিজেনারেটিভ মেডিসিন বিভাগের গবেষক ব্রুনো সিস্টেরনা ও তাঁর সহযোগী এরিক ভিট্রিওল।