১৯১০ সালের যে অগ্নিকাণ্ডে পুড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

দাবানল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। লস অ্যাঞ্জেলেসের মান্ডেভিল ক্যানিয়ন এলাকায়প্রতীকী ছবি: রয়টার্স

ইউরোপীয়দের আগমনের বহু আগে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমের আদিবাসীরা আগুনের সঙ্গে সহাবস্থানের কৌশল শিখেছিল। তারা জানত, মৌসুমি বন্য আগুনের মূল কারণ—শুকনা ঘাস, পড়ে থাকা গাছের গুঁড়ি, অন্যান্য জ্বালানি ও প্রবল বাতাস। এসব প্রতিরোধে পুরোনো গাছের বনাঞ্চল রক্ষার জন্য তারা ব্যবস্থা নিত। কৌশলগুলোর মধ্যে ছিল আগুন দিয়ে আগুন ঠেকানো পদ্ধতি। শীতের শেষ দিকে আর বসন্তকালে যখন পরিবেশ শীতল ও আর্দ্র থাকত, তখন আদিবাসীরা নিয়ন্ত্রিত আগুন জ্বালিয়ে জ্বালানি পোড়াত। ফলে ধ্বংসাত্মক গ্রীষ্মকালীন আগুন লাগার ঘটনা কমে যেত।

১৯০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস। ঐতিহ্যবাহী নিয়ন্ত্রিত পোড়ানো পদ্ধতিগুলো নিয়ে এ সময় আগ্রহ ছিল। তবে ১৯১০ সালের আগস্টে এক বিশাল অগ্নিকাণ্ড বুনো পশ্চিমের তিনটি রাজ্যে তাণ্ডব চালায়। ফলে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি নিয়ে মনোভাব বদলে যায়। ওই অগ্নিকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রে এক শতাব্দী ধরে চলে ‘সব আগুনই খারাপ’ নীতি।

১৯১০ সালের মহা অগ্নিকাণ্ডকে বলা হয় ‘বিগ বার্ন’ বা ‘বিগ ব্লো আপ’। এখন পর্যন্ত এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম একক অগ্নিকাণ্ড হিসেবে ধরা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডে মন্টানা, আইডাহো এবং ওয়াশিংটনের ৩০ লাখ একরের বেশি বন পুড়ে গিয়েছিল। আগুনের তীব্রতাও ছিল নজিরবিহীন। সে বছর ২০ আগস্ট খরাকবলিত আইডাহো ও মন্টানার অসংখ্য ছোট আগুন ৭০ মাইল বাতাসের ঝড়ে একত্র হয়। আগুনের টর্নেডো গাছের ওপরের দিক জ্বালিয়ে জ্বালিয়ে ছুটতে থাকে।

এই অগ্নিকাণ্ডে ৮৭ জন নিহত হয়েছিলেন। যাঁর মধ্যে ৭৮ জনই ছিলেন অগ্নিনির্বাপণকর্মী। ধোঁয়া এতটা ছড়িয়ে পড়েছিল, নিউ ইংল্যান্ডের আকাশ পর্যন্ত অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। সেই আগুনের ভয়াবহতা দেখে জনগণ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তখন ফরেস্ট সার্ভিসের বাজেট ও জনবল দ্বিগুণ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

এর পর থেকে ‘সর্বাত্মক আগুন দমন’ নীতি গ্রহণ করা হয়। এতে ছোট আগুন যত দ্রুত সম্ভব নিভিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও নিয়ন্ত্রিত পোড়ানোর পদ্ধতি নিয়ে গবেষণার আহ্বান জানানো হয়েছিল। ফরেস্ট সার্ভিস এ প্রস্তাব বিপজ্জনক মনে করে প্রত্যাখ্যান করে।

পরের দশকগুলোর আগুনকে ধরা হয় মানবজাতির শত্রু। ১৯৩৫ সালে ‘১০টা বাজে নীতি’ চালু হয়। এ নীতি অনুযায়ী সক্রিয় আগুন পরদিন সকাল ১০টার মধ্যেই নিভিয়ে ফেলতে হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সামরিক প্রযুক্তি উন্নত হলে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়ে যায়। যেমন বোমারু বিমান থেকে রাসায়নিক ফেলে আগুন নেভানোর পদ্ধতি ব্যবহার ও স্যাটেলাইট নজরদারি শুরু করা হয়।

১৯৭০-এর দশকে ফরেস্ট সার্ভিস নীতি পুনর্বিবেচনা শুরু করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়, আগুন অনেক বনভূমির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। নিয়মিত অগ্নিকাণ্ড জ্বালানির পরিমাণ কমিয়ে ভবিষ্যতের অগ্নিকাণ্ডের বিস্তার ধীরগতি করা যায়।

আরও পড়ুন