কেমন হতে যাচ্ছে ২৫–এর কে-পপ দুনিয়া

দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর ফেরার কথা রয়েছে বিটিএস-এর

বিটিএসের সাময়িক বিরতির প্রায় বছর দুয়েক হতে চলল। ব্ল্যাকপিংকের শেষ কনসার্টও হয়েছে সেই ২০২৩ সালে। সার্কেল চার্ট অনুযায়ী, গত বছর শীর্ষ ৪০০ অ্যালবামের মোট বিক্রি আগের বছরের তুলনায় কমেছিল ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কে-পপের যে অভূতপূর্ব উত্থান দেখা গিয়েছিল, তা যেন ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। তবে কি খানিকটা ঝিমিয়ে পড়েছে কে-পপ? আগের সেই উন্মাদনা কি তবে হারাতে বসল বর্ণিল এই গানের জগৎ?

এটা এককথায় বলে দেওয়া যায় না। তবে এক বছরের মধ্যে অ্যালবাম বিক্রির পতন, একের পর এক কেলেঙ্কারি এবং আইডলদের ওপর বাড়তি চাপের পর ২০২৫ সালে কে-পপ জগতের ভবিষ্যৎ খানিকটা তো অনিশ্চিতই বটে। এই কঠিন সময়ে ভক্তদের সামনে সুপারম্যানের মতো আশার আলো নিয়ে আসতে যাচ্ছে বড় ব্যান্ডগুলো। অন্তত এমনটাই কথা রয়েছে।

এই তালিকায় প্রথমেই রয়েছে বিটিএস। দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর ফেরার কথা রয়েছে তাদের। সর্বশেষ ২০২২ সালের জুন মাসে ‘ইয়েট টু কাম’ গানটি প্রকাশের পর ব্যান্ড হিসেবে বিরতি নেন তুমুল জনপ্রিয় এই ব্যান্ডের সদস্যরা। তবে সামরিক প্রশিক্ষণের পর্ব শেষে এ বছরের শেষাংশেই ভক্তদের অধীর অপেক্ষার পালা মিটিয়ে আবার এক হতে পারে বিটিএস। তবে এসেই তারা গানের জগৎ মাতাবে কি না, এ বিষয়ে রয়েছে খানিকটা সন্দেহ। বিটিএসের স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান হাইব এখনো ব্যান্ডটির নতুন গান কিংবা অ্যালবাম প্রকাশের পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি, তবে বিটিএস আর্মিদের জন্য যে নতুন চমক নিয়ে হাজির হবে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এ ব্যাপারে সংগীত সমালোচক লিম হি-ইয়ুন জানান, দ্বিতীয়ার্ধে পুনর্মিলনের পরপরই বিটিএসের নতুন গান বা অ্যালবাম প্রকাশের সম্ভাবনা কম, তবে তারা অবশ্যই ভক্তদের সঙ্গে পুরোনো বন্ধন ফিরিয়ে আনতে নানা ইভেন্টের আয়োজন করবে।

আরও পড়ুন

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নিজেদের সবশেষ কনসার্ট আয়োজন করে ব্ল্যাকপিংক। ‘বর্ন পিংক’ নামের সেই ওয়ার্ল্ড ট্যুর ছিল দারুণ সফল। এক ওয়ার্ল্ড ট্যুর থেকেই আয় হয় ৩০০ বিলিয়ন ওন, যা প্রায় ২২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। কিন্তু দারুণ এই সাফল্যের পর যেন নাম ছাড়া এক বিরতিতে যান ব্ল্যাকপিংকের সদস্যরা। দুই বছর পর আবার কনসার্টের পরিকল্পনা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আসতে চলেছে বিশ্বখ্যাত এই পপ ব্যান্ড।

ব্ল্যাকপিংক কে-পপ জগতের আগের রং ফেরাতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন এখন ভক্তদের ভাবাচ্ছে

বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংক কে-পপ জগতের আগের রং ফেরাতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন যখন ভক্তদের ভাবাচ্ছে, ঠিক তখনই আরেক দিকে চলছে নতুন প্রতিভা অন্বেষণের চেষ্টা। জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট, এসএম এন্টারটেইনমেন্ট ও ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের মতো বড় এজেন্সিগুলো ২০২৫ সালে বেশ কিছু নতুন ব্যান্ডের আত্মপ্রকাশের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।

এরই মধ্যে গত মাসে জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্টের অধীনে ‘কিকফ্লিপ’ নামে একটি নতুন গ্রুপের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। ঠিক তেমনি এসএম এন্টারটেইনমেন্টও ‘অ্যাসপা’র পর এই প্রথম নতুন একটি গার্ল ব্যান্ড চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াইজি এন্টারটেইনমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াং হিউন-সুক নতুন এক ব্যান্ডের পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও এর আত্মপ্রকাশের তারিখ এখনো জানা যায়নি।

এ তো গেল ব্যান্ডের গল্প। বিনোদনের দিক থেকেও কোরিয়ানরা এক ধাপ এগিয়ে। আর তাই তো বর্তমানে কে-পপ জগতের এক জনপ্রিয় নাম হলো ‘ভার্চ্যুয়াল আইডল’। নাম শুনেই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছ, কিসের কথা বলছি। এআই ও মেটাভার্স প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি এসব শিল্পী ধীরে ধীরে বাস্তব শিল্পীদের মতোই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কে-পপ দুনিয়ায়। দক্ষিণ কোরিয়ার ‘অ্যাসপা’ গ্রুপ ইতিমধ্যেই তাদের ভার্চ্যুয়াল সদস্যদের মাধ্যমে এই প্রযুক্তিকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। এ ছাড়া গত বছর প্লেভ ও নেভিসের মতো ভার্চ্যুয়াল আইডলরা বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এসএম এন্টারটেইনমেন্টের ভার্চ্যুয়াল কে-পপ আইডল নেভিস গত বছরের ২০ ডিসেম্বর তার প্রথম একক গান ‘ডান’–এর রিমিক্স প্রকাশ করে। এমনকি ১১-১২ জানুয়ারি সিউলের গচেওক স্কাই ডোমে এসএম টাউনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কনসার্টে উপস্থিত হয়ে পরিবেশন করে তার নতুন গান ‘সেনসিটিভ’।

অ্যালবাম বিক্রিতে মন্দা চলছে

তবে ২০২৫ সালের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো অ্যালবাম বিক্রির মন্দা। ২০২৩ সালে সেভেন্টিন ও স্ট্রে কিডসের মতো বড় ব্যান্ডগুলো তাদের অ্যালবাম বিক্রি করতে পারলেও ২০২৪ সালে শীর্ষ বিক্রীত অ্যালবামগুলো ৩ মিলিয়নও ছুঁতে পারেনি।

যত যা–ই হোক, কে-পপ ভক্তদের কাছে ‘২৫’ যেন আশা ও দারুণ সম্ভাবনার একটি বছর। এই সম্ভাবনা কত দূর নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার পালা।

সূত্র: দ্য কোরিয়া হেরাল্ড, এনডিটিভি ডটকম

আরও পড়ুন