সবার আগে পরিবার সত্য!

মারপিট করো কেন, বসে হও ঠান্ডা,

বেশি যারা ডানপিটে, খাবে তারা ডান্ডা,

বেপরোয়া, একরোখা, আছে যারা দুষ্ট—

সবাইকে কান টেনে করা হবে শিষ্ট,

তারপর বসে বেশ দোকানের ক্যাশেতে,

খেয়েদেয়ে মোটা হব আমি সবশেষেতে।

তাই দেখো চুপচাপ হয়ে সব শান্ত,

আজব মজার এই সাকামোতো কাণ্ড!

সাকামোতো ডেজ! আহ্‌! তোমাদের কীই–বা বলি বলো এই অ্যানিমে নিয়ে? যদি এককথায় বলতে হয় তাহলে বলব, অ্যানিমে-কথন পড়া বন্ধ করে সোজা নেটফ্লিক্স খুলে বসে পড়ো দেখতে। যে মজা তোমরা পাবে, তা আমি এই লেখা যত গুছিয়েই লিখি না কেন, কিছুমাত্র বোঝানো যাবে না।

আচ্ছা, শুরুতে বরং সিরিজটার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়ের ঘটনাটাই বলি। তা প্রায় বছর কয়েক আগের কথা। অফিস থেকে বাড়িতে ফিরে ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাঁটি করছিলাম। হঠাৎ চোখে পড়ল একটা মাঙ্গা; নাম সাকামোতো ডেজ! সাদামাটা প্রচ্ছদ। সেখানে এক বুড়ো হাতে একটা কাপ র৵ামেন (জাপানিজ ইনস্ট্যান্ট কাপ নুডলস) ধরে, আরেক হাতে গুলি ছুড়ছে। তার ঠিক পেছনে গুলি ছুড়ছে আরেক ছেলে। জাপানে এমন প্রচ্ছদ বা গল্পের এমন পটভূমি খুব যে ব্যতিক্রম, তা বলা যায় না। কিন্তু বুড়োর চেহারায় কিছু একটা ছিল, যা আমাকে আগ্রহী করল।

ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলে একটা ব্যাপার আছে, যা শক্তিশালী হলে অনেক সময় আগাম অনেক কিছু বুঝতে পারা যায় বা অনুমান করে ফেলা যায়। আমি দেখেছি, চলচ্চিত্র কিংবা ধারাবাহিকের ক্ষেত্রে অনেক সময় আমার এই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় ভয়ানক নিখুঁত কাজ করেছে। সাকামোতো ডেজ–এর ওই ছবি দেখার পর আর ইন্টারনেট থেকে কাহিনির কিঞ্চিৎ ইঙ্গিত পাওয়ার পর এই ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় আমাকে একেবারে চেপে ধরল। সে সময় স্থানীয় একটা কমিকসের দোকানে আমার বেশ যাতায়াত ছিল। মাসে পাঁচ-ছয়বার তো যাওয়া হতোই! একদিন দেখি, তারা আমদানি করেছে এই মাঙ্গা। আমি ঝটপট কিনে ফেললাম।

বাড়িতে ফিরে মাঙ্গা পড়ে বুঝলাম, এবারও বেইমানি করেনি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়, সঠিক ইঙ্গিতই দিয়েছিল। নিমেষেই সিরিজটির ভক্ত হয়ে গেলাম। এরপর কয়েক মাস অন্তর কিনতে কিনতে গত বছর পর্যন্ত দশখানা ভলিউম সংগ্রহ করে ফেলেছি, সেগুলো পড়াও শেষ। তারপর নিতান্ত অনিচ্ছায়ই থামতে হলো। কারণটা অবশ্যই সামর্থ্যের অভাব! তা ছাড়া পরিচিত দোকানটাও একদিন হুট করে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে আবার সংগ্রহ শুরু করার।

এ তো গেল আমার সঙ্গে সিরিজটি পরিচয়ের ইতিহাস। এবার তোমাদের বলছি লেখককে নিয়ে। ‘সাকামোতো ডেজ’ গল্পটির লেখক ও আঁকিয়ে ইয়ুতো সুজুকি। টোকিওর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া শেষ করার পর, ২০১৯ সালে, সে প্রথম একটা ওয়ান-শট মাঙ্গা লিখে আত্মপ্রকাশ করে ‘জাম্প-প্লাস’ অনলাইন ম্যাগাজিনে। তোমরা হয়তো জানো কিংবা জানো না, জাপানে মূলধারার মাঙ্গা ম্যাগাজিনগুলোয় কাজ করতে চাইলে সাধারণত মাঙ্গা লিখিয়ে ও আঁকিয়েদের একটা বড়গল্পের মতো মাঙ্গা এঁকে জমা দিতে হয়। ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত মাঙ্গার প্রতিটি অধ্যায় ১৩ থেকে ১৯ পৃষ্ঠার মতো হলেও এই ওয়ান-শট মাঙ্গার পরিসর হয় ৩৫ থেকে ৬৫ পৃষ্ঠার মতো। ফলে পাঠকেরা লেখককে প্রথমবারের মতো একটু দীর্ঘ আঙ্গিকে যাচাই করার সুযোগ পান। আর প্রকাশকও বুঝে নিতে পারেন যে এই লেখকের ভবিষ্যৎ আবেদন ঠিক কতটা হতে পারে, তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ কোনো প্রকল্পে কাজ করা আদৌ যৌক্তিক হবে কি না!

এভাবেই কয়েকটা বছর কেটে যাওয়ার পর হঠাৎ একদিন তার মাথায় কে যেন ঝুলিয়ে দিল সমন। খোলা চুক্তিতে তাকে খুন করে ফেলার জন্য বাঁধা হলো চড়া মূল্য। আর সেই কাজ সমাধা করতেই তারই পূর্বপরিচিত আরেক আততায়ী হাজির হলো দোরগোড়ায়।

ইয়ুতো সুজুকির প্রথম ওয়ান-শট গল্প ‘গারাকু’। ব্যাপক সাফল্য পাওয়ায় সে বছরই দ্বিতীয় গল্প ‘লকার-রুম’ প্রকাশিত হয় একই ম্যাগাজিনে। এর ধারাবাহিকতায়ই তাঁর সুযোগ হয় ধারাবাহিক গল্প ‘সাকামোতো ডেজ’ নিয়ে সাপ্তাহিক শোওনেন জাম্প–এর মতো জনপ্রিয় পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার। সে যাত্রা এখনো জারি আছে।

এই সাফল্যের মুকুটে শেষ যে পালক জুড়ে বসেছে, তা হচ্ছে গল্পটির ওপর ভিত্তি করে নির্মিত ধারাবাহিক অ্যানিমে সিরিজ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে শুরু হয়েছে এ যাত্রা। ফলে তোমরা যারা একেবারে নতুন কোনো অ্যানিমে সিরিজ দেখার জন্য মুখিয়ে আছ, তাদের জন্য এ একেবারে সুবর্ণ সুযোগ! অ্যানিমেটির সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছে জনপ্রিয় স্ট্রিমিং কোম্পানি নেটফ্লিক্স। প্রথম সিজনে ১১টি পর্ব থাকবে, আর দ্বিতীয় সিজনও এর মধ্যেই অর্থায়ন পেয়ে গেছে। ফলে তোমাদের শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সিরিজটি নির্মাণ করছে ঐতিহ্যবাহী অ্যানিমে প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান টিএমএস এন্টারটেইনমেন্ট। তাদের তৈরি জনপ্রিয় অ্যানিমেগুলোর ভেতর আকিরা, লুপিন দ্য থার্ড, আইশিতেরুজে বেবি, ডি গ্রে ম্যান, হিস্টোরিস স্ট্রঙ্গেস্ট ডিসাইপল কেনিচি, রি-লাইফ, ডক্টর স্টোন, ব্লু বক্স, হানি লেমন সোডা প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এতক্ষণের বকবকানি শুনে তোমরা হয়তো ভাবছ, লোকটা এত কিছু বলল, কিন্তু অ্যানিমের কাহিনি নিয়েই কিছু বলল না! এ ব্যাপারে একটু কৌশলী কিন্তু হয়েছি। অ্যানিমে-কথনের একেবারে শুরুতেই লেখা ছড়ায় গল্পের সামান্য আঙ্গিক তুলে ধরা আছে। কাহিনিটা একটু শুনলে তোমরা তা নিশ্চয়ই ধরে ফেলবে।

তারো সাকামোতো, বিশিষ্ট পেশাদার খুনি। অজ্ঞাত আততায়ীদের গোপন জগতে তাকে সবাই একনামে চেনে। এমনই তার ক্ষমতা যে একাই আস্ত একটা বাহিনীকে ঘায়েল করে ফেলতে পারে। এভাবেই নিধনযজ্ঞে চলছিল তার দিনকাল, বিপাক ঘটল একদিন বাজারে গিয়ে। কেনাকাটা করে দাম চুকাতে গিয়ে তার দেখা হয়ে গেলে ক্যাশে দাঁড়ানো মেয়েটির সঙ্গে। সাধারণ মেয়ে আয়োই, তাকে দেখামাত্রই প্রেমে পড়ে গেল সাকামোতো।

প্রেমের জন্য মানুষ কী না করতে পারে! আর সাকামোতো খোদ একজন মোক্ষম ব্যক্তি। ফলে তার ভালোবাসার মেয়েটি যখন একত্রে জীবন কাটানোর জন্য একটা কঠিন শর্ত ছুড়ল, সে দ্রুত রাজি হয়ে গেল। শর্তটা হচ্ছে, এই সব অন্ধকার দুনিয়ার ভীষণ কাজ ত্যাগ করে একেবারে সাদামাটা মানুষ হিসেবে জীবন কাটাতে হবে। কোনো প্রকার খুনখারাবি আর করা চলবে না। তোমাদের মনে হতে পারে, এ আর এমন কী কঠিন শর্ত? আসলে পাপের পথটাই এমন যে এখানে সহজে ঢোকা যায় ঠিকই, কিন্তু বেরিয়ে আসা যায় না।

সাকামোতো ভিন্ন ধাতুতে গড়া মানুষ, সে ওসব পাপরাজ্যের শর্তের থোড়াই তোয়াক্কা করে! তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দিল সব। হয়ে গেল একনিষ্ঠ প্রেমিক, তারপর স্বামী। দুজনের বিয়ের পর ঘর আলো করে এল এক কন্যাসন্তান। তার নাম রাখা হলো হানা সাকামোতো। জীবিকার তাগিদে সৎপথে রোজগারের উপলক্ষে একটা দোকান খুলে বসল সাবেক ঘাতক। দোকানের ক্যাশে বসে থাকা হয়ে উঠল তার প্রধান কর্তব্য। সেই সঙ্গে নিয়মিত ভালোমন্দ খেয়ে সে হয়ে উঠল যারপরনাই মোটাসোটা। ফলে সাদাচুলো সাকামোতোকে যৌবনেও দেখায় বুড়োদের মতো। ঝুলে পড়া গাল আর থলথলে ভুঁড়িতে তাকে আর অতীতের অব্যর্থ ঘাতক বলে চেনা দায়। বরং মনে হয় ভালো মানুষ প্রতিবেশীর মতো। এলাকায় তার থেকে সাহায্য নেয় সবাই, সে–ও পরোপকার করে আনন্দই পায়। স্বল্পভাষী সাকামোতো সুখী অণু পরিবার নিয়ে দিব্যি দিন কাটাতে লাগল।

এভাবেই কয়েকটা বছর কেটে যাওয়ার পর হঠাৎ একদিন তার মাথায় কে যেন ঝুলিয়ে দিল সমন। খোলা চুক্তিতে তাকে খুন করে ফেলার জন্য বাঁধা হলো চড়া মূল্য। আর সেই কাজ সমাধা করতেই তারই পূর্বপরিচিত আরেক আততায়ী হাজির হলো দোরগোড়ায়। ছেলেটি বয়সে সাকামোতোর চেয়ে ছোট, নাম শিন আসাকুরা। সাকামোতোর মতো কিংবদন্তি দক্ষতা না থাকলেও তার একটি বিশেষ ক্ষমতা আছে। সে মনের কথা পড়তে পারে। শান্ত সাকামোতোকে দেখে শিন ভাবল, তাকে হত্যার কাজটা হয়তো সহজ হবে। কিন্তু সাকামোতোর চিন্তাভাবনা পড়তে গিয়েই বুঝল, ঘটনা এত সহজ নয়। কাজ ছেড়ে বেরিয়ে এলে কী হবে, পুরোনো খুনি এখনো বেশ ক্ষুরধার। চাইলে নিমেষেই শিনের হালুয়া টাইট করে দিতে পারে। তবু চেষ্টা চালাতে হলো ওকে। পিস্তল বাগিয়ে গুলি ছুড়ল শিন। সেই গুলি সাকামোতো ঠেকিয়ে দিল মুখে থাকা লজেন্স ছুড়ে। শিনকে কাবু করার জন্য সাকামোতোর কোনো অস্ত্রেরই প্রয়োজন পড়ল না, দিব্যি দোকানের টুকিটাকি সাধারণ জিনিস কাজে লাগিয়েই ঘায়েল করে ফেলল প্রতিপক্ষকে।

জ্ঞান ফিরলে শিন দেখল, সে শুয়ে আছে সাকামোতোর বাড়িতে। বাড়ির গৃহিণী তার জন্য খাবার রান্না করে খেতে ডাকল, আর ছোট্ট হানাও পারিবারিক এই পরিমণ্ডলে সহজেই গ্রহণ করে নিল তাকে। অনায়াস ভালোবাসা পেয়ে নিজেকে সংযত করল শিন। ফিরে গেল তার বর্তমান দলনেতার কাছে, যে এই খুন করতে পাঠিয়েছিল। শিনকে ছেড়ে দিতে চাইল না দলনেতা, সদলবল খতম করতে উদ্যত হলো এই ব্যর্থতার জন্য। শিনের বাঁচার উপায় প্রায় নেই বললেই চলে। কিন্তু সাকামোতো যার সহায়, তাকে মারবে সাধ্য কার?

আরও পড়ুন

মূলত এভাবেই শুরু হয় গল্পটা। তারপর আরও কত কী যে হবে, তা বলতে গেলে হয়তো কিআর অর্ধেক ম্যাগাজিন ভরে যাবে কথায়। ফলে সেই ঝুঁকি আর নেওয়া গেল না। তোমরা যারা এর আগে জন উইক সিরিজের চলচ্চিত্রগুলো দেখেছ, তাদের সাকামোতো ডেজ–এর পটভূমি বেশ পরিচিত মনে হবে। তার বড় কারণ হচ্ছে, লেখক আরও বেশ কিছু অ্যাকশন সিরিজের মতো জন উইক থেকেও যথেষ্ট অনুপ্রাণিত হয়েছিল গল্প লেখার সময়। তবে সাকামোতো ডেজ আমার কাছে অনেক ক্ষেত্রেই জন উইক–এর চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। এর গল্প জন উইক–এর তুলনায় ভালো। পার্শ্বচরিত্ররা বেশ মজার আর অভিনব ক্ষমতার অধিকারী। জন উইকের পরিবার ছিল না, কিন্তু সাকামোতো আগাগোড়া পারিবারিক মানুষ। স্ত্রী-কন্যা বা সঙ্গীদের নিরাপত্তা তার কাছে সবার আগে। আর সবশেষে যা সাকামোতো ডেজকে আলাদা করে, তা হচ্ছে এর হাস্যরসাত্মক আঙ্গিক। প্রতিপক্ষের ভয়াল অস্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে সাকামোতো তুচ্ছাতিতুচ্ছ সব উপকরণ কাজে লাগিয়ে কীভাবে আঘাত ঠেকিয়ে দেয়, কী সব বিচিত্র উপায়ে তাদের ঘায়েল করে, তা দেখলে তোমরা ভীষণ যুদ্ধের মধ্যেও প্রায়ই ফিক করে হেসে ফেলবে।

এর আগেই তোমাদের বলে ফেলেছি শিন, হানা আর আয়োইর কথা। মূলত শিনকে উদ্ধার করে আনার পর সাকামোতোর দোকানেই সে কাজে লেগে পড়ে। এমনি আরও দুটো ভিন্ন ঘটনাচক্রে লু শাওট্যাং আর হেইস্কে মাশিমো যোগ দেয় সাকামোতোর সঙ্গে। এদের কাহিনি তোমাদের ভেঙে বললাম না, প্রথম সিজনের শুরুর দিকের পর্বগুলোর ঘটনা মূলত এদের নিয়ে।

এদের পাশাপাশি ফিরে আসে সাকামোতোর অতীত জীবনের ভয়ানক সঙ্গীরা। তাদের কেউ তার সহায় হয়, কেউবা থাকে নিরপেক্ষ। তবে এদের প্রত্যেকেই দক্ষ। এদের মধ্যে শুরুর দিকে তোমরা বেশ কয়েকবার ইয়োইচি নাগুমোর সাক্ষাৎ পাবে। আমার অবশ্য এদের মধ্যে সবচেয়ে বিশেষ মনে হয়েছে বুড়ো তলোয়ারবাজ তাকামুরাকে। তার কেরামতি তোমরা প্রথম সিজনে দেখতে পাবে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলতে পারছি না।

ভালো গল্পে প্রয়োজন হয় ভালো প্রতিপক্ষ। সাকামোতো ডেজ–এ আছে তেমন তাগড়াই বদমাশ, যারা এতই শক্তিধর যে হিমশিম খেতে হয় খোদ সাকামোতোকেও। দীর্ঘদিনের অনভ্যাসে সাকামোতোর যে রূপান্তর হয়েছে, তা–ও তাকে খানিক সীমিত করে ফেলেছে বৈকি! উপরন্তু স্ত্রীর দেওয়া শর্ত—আর যা–ই করো, কাউকে খুন করা চলবে না! তাই সব লড়াই সহজে শেষ করা সম্ভব হয় না। আর শত্রুদের বড় সুবিধা হচ্ছে, তারা অচেনা। সাকামোতো চেষ্টা করে এদের পরিচয় উদ্ধার করার, কে তার ঘাড়ে হত্যার নোটিশ ঝুলিয়ে দিয়েছে, তা আবিষ্কার করার। কিন্তু, কাজটা মোটেই সহজ নয়। শত্রুপক্ষের লুকোচুরি, শানানো আক্রমণ আর সাকামোতোর নিজস্ব অণু দলটির নানা লড়াই ও কর্মকাণ্ডই ধরে রাখবে তোমাদের মনোযোগ।

আরও পড়ুন

সাকামোতো ডেজ–এর শিরোনাম গানটা হচ্ছে ‘রান সাকামোতো, রান’, জাপানিজ গায়ক ভাউন্ডির গাওয়া এই গান আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। এ ছাড়া পর্ব শেষে এখন পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছে দুটি গান। এর প্রথম দিকের গানটি হচ্ছে ‘ফুৎসুউ’, জাপানিজ নারীভিত্তিক ব্যান্ড কটন ক্যান্ডির এই গান গতানুগতিক হলেও দ্বিতীয় গানটি আমার চমৎকার লেগেছে। সমাপ্তির দ্বিতীয় গানটা তোমরা শুনতে পাবে ৭ নম্বর পর্বের শেষে। গানটির নাম ‘সামবডি হেল্প আস’, এই গানও গেয়েছে ভাউন্ডি।

এতক্ষণের কথা পড়ে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছ, সাকামোতো ডেজ অ্যানিমেতে প্রচুর লড়াইয়ের দৃশ্য রয়েছে। আজকাল লড়াই শুনলেই চোখে ভেসে ওঠে কিমেৎসু নো ইয়াইবার চমৎকার সব অ্যানিমেশন কিংবা শিনগেকি নো কিওজিন–এর সেই সব অতিমানবীয় হাই বাজেট লড়াই! এ ক্ষেত্রে সাকামোতো ডেজ অ্যানিমে তোমাদের সামান্য হতাশ করতে পারে। লড়াইগুলো চমৎকার হলেও অ্যানিমেশন হয়তো অতটা উচ্চতা স্পর্শ করতে পারেনি। তবে আমার ধারণা, অ্যানিমেশনকে এই আঙ্গিকে উপস্থাপনের বিষয়টি সচেতনভাবে নেওয়া। কারণ, সাকামোতো ডেজকে কেবল অ্যাকশন অ্যানিমে হিসেবে উপস্থাপন করতে চাননি নির্মাতারা। বরং এখানে দৈনন্দিন আর পারিবারিক আঙ্গিককেও তারা সহজভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। একই সঙ্গে চেষ্টা করেছেন, একটু পুরোনো অ্যানিমের আবহ ধরে রাখতে, যাতে নতুন-পুরোনো সব দর্শক সহজেই এর সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারেন।

আমি ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের সহায়তায় বই হাতে আসার আগেই বুঝে গিয়েছিলাম যে গল্পটা আমার জন্যই লেখা হয়েছে। তবে তোমাদের সেই ঝুঁকি নিতে হচ্ছে না। সাকামোতো ডেজ–এর খুঁটিনাটি আঙ্গিক এতক্ষণে তোমরা জেনে ফেলেছ। এবারে দেখবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নিজেরাই নিয়ে ফেলো। খুব বেশি দেরি না করলে প্রথম সিজনটা হয়তো আমরা একই সময় দেখে শেষ করতে পারব।

আরও পড়ুন