ঈদের দিন বিকেলে মনটা খারাপ হতো

নন্দিতা

তখন আমার বয়স সাত কি আট। বার্ষিক পরীক্ষার পর নানুবাড়ি যাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকতাম। ঈদের আগে আগে নানুবাড়ি যেতাম। যাওয়ার আগে উত্তেজনায় রাতে ঘুমই আসত না। আমরা থাকতাম মুন্সিগঞ্জে। সেখানেই বড় হয়েছি। নানুবাড়ি ফরিদপুরে। তখন তো পদ্মা সেতু ছিল না। মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসতেও মোটামুটি দুই-আড়াই ঘণ্টা লাগত।

আমার মোশন সিকনেস ছিল। জার্নিতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়তাম। মুন্সিগঞ্জ থেকে ট্রলারে করে নদী পার হয়ে বাসে করে মতিঝিলে নামতে হতো। ততক্ষণে আমি অসুস্থ হয়ে পড়তাম। মতিঝিল থেকে গাবতলী। গাবতলী থেকে আব্বুর কোলে ঘুমাতে ঘুমাতে ফরিদপুর যেতাম। কিছুক্ষণ পরপর জিজ্ঞাসা করতাম, ‘আর কতক্ষণ?’ আব্বু বলত, ‘এই তো চলে এসেছি।’ মোটামুটি ছয়-সাত ঘণ্টার জার্নি শেষে নানুবাড়ি পৌঁছাতাম। নানা-নানু কী যে আদর করতেন। ঈদের দিন মামা, খালা, চাচারা জামা গিফট দিতেন। আমি ভাবতাম, একেক বেলা একেক জামা পরব। ঈদের আগের রাতে কাজিনরা মিলে হাতে বাটা মেহেদি দিতাম। বিকেল হয়ে এলে মনটা খারাপ হতো, দিনটা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। এই স্মৃতিগুলো এত বেশি জ্বলজ্বলে। মনে পড়লেই আমি সেই সময়ে ফিরে যাই।

আরও পড়ুন